ইসিবি চত্বর থেকে অটোতে উঠেছি।বালুঘাট যাব।ইফতারের তখনো বাকি ২৫ মিনিট।
ব্যাগে নরমালি পানি থাকে— তবে আজকে ছিলোনা।
যে সময় আছে তাতে সহজেই ইফতারের আগে বাসায় পৌঁছে যাবো ভেবে আর পানি কিনলাম না।
.
কিছু দূর যেতেই দেখি বিশাল জ্যাম।
যে পরিমাণ গাড়ি এই রাস্তায় চলাচল করে সেই তুলনায় রাস্তাটা বেশ সরু।
মাঝেমধ্যেই জ্যামে পড়তে হয়।
আজকের জ্যাম মনে হচ্ছে অন্যান্য দিনের থেকেও কঠিন।
১৫ মিনিট জ্যাম ঠেলে মানিকদি বাজার এসে রিকশা যেনো একদম আটকে গেল।
.
একটু পর পর ফোনে টাইম দেখছি।
লোকেশন জানতে চেয়ে— বাসা থেকে আসা টেক্সটের রিপ্লাই দিচ্ছি।
একটু পরে পাশে তাকাতেই চোখে পড়লো— এক মুরুব্বি ফুটপাতে দাঁড়িয়ে রোজাদার পথচারীদেরকে ছোট ছোট পানির বোতল দিচ্ছেন।
আমার অটো তার বরাবর আসতেই— তিনি আমার দিকেও একটি বোতল বাড়িয়ে দিলেন।
কিন্তু কেমন যেন একটা সংকোচ কাজ করলো— বোতলটা নিলাম না।
লোকটা কষ্ট পেলেন কিনা বুঝলাম না।
আবার নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে অন্য পথচারীদের বোতল অফার করতে থাকলেন।
কেউ নিলো, কেউ নিলো না।
.
জ্যামের কারণে রিকশা প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে একই জায়গায় দাঁড়ানো।
বেশ কিছুক্ষণ আমি মানুষটার দিকে তাকিয়ে রইলাম। এক ফাঁকে ছবিও তুললাম।
কী দারুণ ধৈর্য নিয়ে পানির বোতল বিলাচ্ছেন— ইফতারের আগ-মুহূর্তে বাসার আবেশ বঞ্চিত অপরিচিত পথচারীদের।
দেখতেও যেনো এক অদ্ভুত ভালোলাগা কাজ করছিলো আমার ভেতরে।
ইফতারের তখন বাকি আর চার মিনিট।
মনে হচ্ছে— বোতলটা ফিরিয়ে না দিলেই বোধহয় ভালো হতো।
আবার চাইতে তো আরো বেশি সংকোচবোধ হচ্ছে।
নিচের দিকে তাকিয়ে দোয়া পড়ছি আর ফোনে টাইম দেখছি।
.
মুরুব্বি আবার রিকশার কাছে আসলেন।
আমি তাকাতেই— একটা মুচকি হাসি দিয়ে বোতলটা আমার হাতে দিলেন।
আমিও এবার কৃতজ্ঞতামাখা হাসি দিয়ে বোতলটা নিলাম।
সারাদিনের রোজা শেষে, এই মুহূর্তটা অন্তরে এক অদ্ভুত প্রশান্তি এনে দিলো।
অজান্তেই চোখ ভিজে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে গেলো।
এমন নিঃস্বার্থ ভালো কাজের উসিলায়— আল্লাহ যেন এই মানুষটার মনের সব চাওয়া পূরণ করে দেন।
.
জ্যাম ছেড়ে দিয়েছে।
অবাক হয়ে খেয়াল করলাম— সামনের রাস্তা হঠাৎ করেই একদম ফাঁকা হয়ে গেছে।
একটানে বালুঘাট বাজারে এসে নামতেই আযান হলো।
এই বোতলের পানি দিয়েই রোজা ভাঙলাম— আলহামদুলিল্লাহ।
.
আল্লাহ যেন আমাদের সমাজে এমন নীরব ভালো মানুষের সংখ্যা আরও বাড়িয়ে দেন।