নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী দিপু ও তার বাহিনী অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বন্দর ও তার আশে পাশের এলাকাকে আতঙ্কের জনপথ তৈরী করে রেখেছে। দিপুর বিরুদ্ধে মাদক, চাঁদাবাজি, জমিদখল ও আধিপত্য বিস্তারসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ঐসব এলাকায় যেকোনো নতুন স্থাপনা নির্মাণের সময় তার বাহিনীকে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হয়। চাঁদা না দিলে কাজ বন্ধ করে দেওয়া এবং মারধরের ঘটনা ছিল নিয়মিত। শীতলক্ষ্যা নদীর তীরের বিভিন্ন পয়েন্টে পণ্যবাহী ট্রলার ও বাল্কহেড থেকে তার বাহিনীর সদস্যরা নিয়মিত চাঁদা আদায় করে। স্থানীয় ছোট-বড় ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নিয়মিত 'মাসোহারা' আদায় করার ও অভিযোগ রয়েছে। দিপু তার বাহিনীর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পৈতৃক জমি ও ভিটেমাটি জোরপূর্বক দখল করে। ভুক্তভোগীদের ভয় দেখিয়ে নামমাত্র মূল্যে জমি লিখে নেওয়া অথবা পেশিশক্তি ব্যবহার করে উচ্ছেদ করার ঘটনায় সে এলাকায় কুখ্যাত। আধিপত্য বজায় রাখতে দিপু প্রায়ই আগ্নেয়াস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যবহার করে আসছিল। দিপু বাহিনীর ছত্রছায়ায় মদনপুর ও বন্দর এলাকায় মাদকের একটি বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে উঠে। তার সরাসরি তত্ত্বাবধান এলাকায় গাঁজা, ইয়াবা ও ফেন্সিডিল কেনাবেচা হয়। উল্লেখ্য যে, এই শীর্ষ সন্ত্রাসী দিপুর অপরাধ কর্মকান্ড নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ও গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হয়েছে।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী দিপু ও তার সহযোগীদের দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে র্যাব-১১ গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে। অদ্য ১০ মার্চ ২০২৬ খ্রিঃ তারিখ রাত ১১:৩০ ঘটিকার সময় র্যাব-১১, সিপিএসসি এর একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানাধীন পূর্ব চাঁনপুর গ্রামে আসামী দিপুর বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে তাকে ০১টি বিদেশী পিস্তল, ০১টি ম্যাগাজিন, ০১ রাউন্ড গুলি, ০১টি চাইনিজ কুড়াল, ০২ টি চাকু এবং বেশ কিছু লোহার পাইপসহ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ দিপু (৩২) নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানার মদনপুর ইউনিয়নের পূর্ব চাঁনপুর গ্রামের মুইচা কালাম ওরফে আবু কালাম এর ছেলে। গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানায় অন্তত ১৮টি মামলা রয়েছে যার মধ্যে ০১টি অস্ত্র, ০১টি হত্যা, ০৮টি হত্যা চেষ্টা, ০১টি ডাকাতি, ০১টি অপহরণ, ০৩টি চাঁদাবাজি ও ০২টি মাদক মামলা রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য বন্দর থানা হস্তান্তর করা হয়েছে।