ভোলা জেলার মেয়ে হাজেরা আজ থেকে ৩৫ বছর আগে বিক্রি হয়ে চলে আসে পাকিস্তানের লাহোরে। এরপর পবিত্র মাতৃভূমি ভোলা জেলা ও আপনজনদের সাথে বিচ্ছিন্ন। নীরব নিভৃতে দেশ ও আপনজনের জন্য প্রতিনিয়ত চোখের জল ফেলছেন ভোলা জেলার কেউ কি আছেন ওনার আপনজনদের খোঁজ দিতে পারে?
সময়টা আজ থেকে ৩৫ বছর আগে। এক কিশোরী, যার চোখে ছিল অনেক স্বপ্ন, আর মনে ছিল পরিবারের প্রতি অগাধ বিশ্বাস। কিন্তু সেই বিশ্বাসকেই পুঁজি করে এক পাষণ্ড আত্মীয় তাকে তুলে দিয়েছিল দালালের হাতে। ট্রেনের চাকায় পিষ্ট হয়েছিল তার শৈশব, তার চেনা জগত। চোখের জল মুছতে মুছতে কিশোরী হাজেরা পৌঁছে গিয়েছিল পরবাসে—পাকিস্তানের লাহোরে। কিন্তু তার ভেতরের অদম্য ইচ্ছা আর দেশপ্রেম তাকে হার মানতে দেয়নি। পরের বাড়িতে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে, তিল তিল করে টাকা জমিয়ে তিনি সেই দালালের দেনা শোধ করে নিজেকে 'আজাদ' করেছেন। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর আজ তিনি মুক্ত, কিন্তু তার মনটা আজও পড়ে আছে ভোলার সেই মেঠো পথে, যেখানে তার বাবা-মা তাকে 'হাজেরা' বলে ডাকতেন।
হাজেরা
স্মৃতির পাতায় ধুলো পড়া কিছু নাম:
হাজেরার খুব বেশি কিছু মনে নেই, শুধু হৃদয়ে গেঁথে আছে প্রিয় এই নামগুলো:
বাবা: মহিজুল / মফিজুল ইসলাম।
মা: নূর জাহান নূরী।
ভাই: নবী হোসেন।
বোন: বকুলী ও রাবেয়া।
নিজের গ্রাম: কাছিয়া।
পোস্ট: তুলাতুলি।
জেলা: ভোলা।
হাজেরা আজ লাহোরে এক শ্রমিকের স্ত্রী। জীবন তাকে অনেক কিছু দিয়েছে, কিন্তু তার বাবার দেখা পাওয়ার তৃষ্ণা মেটাতে পারেনি। ৩৫ বছর ধরে তিনি শুধু এক বুক হাহাকার নিয়ে অপেক্ষা করছেন—একটিবার কি তার ভাই নবী হোসেনের দেখা পাবেন না? একটিবার কি বোনদের জড়িয়ে ধরে বলতে পারবেন না, "আমি তোদের সেই হারিয়ে যাওয়া বোন"?
ভোলার ভাই-বোনেরা, আপনাদের কাছে মিনতি:
ভোলার কাছিয়া বা তুলাতুলি এলাকার কেউ কি আছেন? আপনাদের আশেপাশে কি এমন কোনো পরিবার আছে যাদের একটি মেয়ে ৩৫ বছর আগে হারিয়ে গিয়েছিল? আপনাদের একটি 'শেয়ার' হয়তো এই দীর্ঘ ৩৫ বছরের বিচ্ছেদের অবসান ঘটাতে পারে। একটি বৃদ্ধা হৃদয়ের শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে আমাদের সাহায্য করুন।
যোগাযোগ
এস এম রোকনুজ্জামান
টিমমেম্বার, খোঁজ
ফোন: +8801716982669