সময় আলহাজ্ব সৈয়দ মোহাম্মদ অজিউল্ল্যাহ আল হাচানী আল মাইজ ভান্ডারী নানার

0
FB_IMG_1775575429524

সাথে। যিনি মনে-প্রাণে মাইজভান্ডারী মতাদর্শের একজন একনিষ্ঠ অনুসারী। সম্পর্কে তিনি আমার মরহুম নানা সালেম মিয়ার ছোট ভাই। নানার জীবনের গল্পগুলো যেমন দীর্ঘ, তেমনই বিস্ময়কর। আমার পেছনে যে বিশেষ পাকা বক্সটি দেখা যাচ্ছে, সেটি নানা নিজের হাতে তৈরি করেছেন। তিনি জানান, স্বপ্নে আদিষ্ট হয়েই এই বিশেষ সমাধিস্থলটি নির্মাণ করেছেন তিনি। নানার বিশ্বাস, মৃত্যুর পর তাঁকে এই বক্সে রাখা হলে তাঁর দেহ অবিকৃত থাকবে। ভক্ত-অনুরাগীরা যাতে বক্সের ফাঁকা অংশ দিয়ে তাঁকে একনজর দেখতে পারেন, স্বপ্নে পাওয়া নির্দেশনা থেকেই এই বিশেষ নকশা।

নানার জীবনের অনেকটা সময় কেটেছে ঢাকার মিরপুরে। চিড়িয়াখানার গেটের পাশেই ছিল তাঁর বিশাল বাড়ি ও দরবার শরীফ। এক অভাবনীয় ত্যাগের দৃষ্টান্ত রেখে প্রায় ৫০ কোটি টাকা মূল্যের সেই জমি ও বাড়ি তিনি একটি সমিতিকে দান করে দেন। কৌতূহলবশত তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, “নানা, এত দামি সম্পদ কেন ত্যাগ করলেন? এখনোতো আপনার অনেক সম্পদ আছে, তারপরও কেন গ্রামে এখানে এত সাধারণভাবে থাকছেন?” তিনি মৃদু হেসে উত্তর দিলেন দুনিয়ার মোহের প্রতি তাঁর কোনো লোভ নেই। তিনি এখন সম্পূর্ণভাবে ‘উপরওয়ালার’ জিম্মায় আছেন। তাঁর একমাত্র ব্যস্ততা এখন সৃষ্টিকর্তাকে খুশি করা নিয়ে, পার্থিব কোনো প্রাপ্তি তাঁকে আর টানে না।

বর্তমানে তাঁর সন্তানেরা সাভারে থাকলেও, নানা জীবনের শেষ দিনগুলো অতিবাহিত করতে ফিরে এসেছেন নিজ গ্রামে। দীর্ঘ আলাপচারিতা শেষে বিদায়বেলায় আবদার করতেই পরম মমতায় মাথায় হাত রেখে দোয়া করে দিলেন। এমন নির্লোভ ও আধ্যাত্মিক মানুষের ছায়া মাথায় থাকা সত্যি সৌভাগ্যের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *