তুমি একা এসো, আমি তোমাকে খাতা দেখাবো’—শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের অশোভন মন্তব্যের অভিযোগ

0
FB_IMG_1789318372819


“তুমি একা এসো, আমি তোমাকে খাতা দেখাবো।”
“তোমার ওড়না উঠাও, আমি পালস মেপে দেব।”
“তোমার ফিগার অনেক সুন্দর।”
“তোমার হাসি আমার বুকে এসে লাগে।”
“আসো, তোমার জ্বর মেপে দিই।”
এগুলো কোনো নাটক বা সিনেমার সংলাপ নয়—একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের করা অভিযোগ।

অভিযোগটি উঠেছে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ফারুকুজ্জামানের বিরুদ্ধে। ছাত্রীদের দাবি, একজন-দুজন নয়, শ্রেণিকক্ষের একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গেই তিনি এ ধরনের অশোভন ও আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন।
অভিযোগের পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার খবরও এসেছে। তবে অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র নির্ধারণে যথাযথ তদন্ত জরুরি।

শিক্ষককে আমরা প্রায়ই ‘পিতার মতো’ সম্মান করি। কিন্তু একজন শিক্ষকের কাছ থেকে ছাত্রীদের প্রতি প্রত্যাশা হলো—নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও পেশাদার আচরণ। কোনো শিক্ষার্থী যেন শিক্ষকের কথাবার্তা বা আচরণে অস্বস্তি, ভয় কিংবা অপমানবোধ না করে।

বালিকা বিদ্যালয়ে পুরুষ শিক্ষক থাকা উচিত কি না—এটি আলাদা একটি নীতিগত বিতর্ক। তবে শিক্ষক নারী বা পুরুষ যেই হোন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও মানসিক স্বস্তি নিশ্চিত করা অবশ্যই প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

একটি অভিযোগকে কেন্দ্র করে সব পুরুষ শিক্ষককে প্রশ্নবিদ্ধ করাও যেমন ঠিক নয়, তেমনি কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠলে সেটিকে হালকাভাবে দেখারও সুযোগ নেই।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হবে জ্ঞান ও নিরাপত্তার জায়গা—অস্বস্তি, হয়রানি কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের জায়গা নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *