ভোলা- শরীয়তপুর- ঢাকা সড়ক নিয়ে অ্যাডভোকেট মনিরের বক্তব্যে বিতর্কের ঢেউ
ভোলা প্রতিনিধি
ভোলা-বরিশাল-শরীয়তপুর সংযোগকারী প্রস্তাবিত সড়কপথের যৌক্তিকতা তুলে ধরতে গিয়ে ভোলা থেকে সড়কপথে মাত্র দুই ঘণ্টায় ঢাকায় পৌঁছানো সম্ভব—এমন বক্তব্য দিয়েছেন অ্যাডভোকেট ও সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম (অ্যাডভোকেট মনির)। তার এ বক্তব্যকে ঘিরে ভোলায় শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মনির বলেন, শরীয়তপুরের গোসাইরহাট, হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ হয়ে ভোলাকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে এটি ভোলার যোগাযোগব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে। তার দাবি, প্রস্তাবিত বিকল্প সড়কপথ চালু হলে ভোলা থেকে ঢাকায় যাতায়াতের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে এবং প্রায় দুই ঘণ্টায় ঢাকা পৌঁছানো সম্ভব হবে।
তবে তার এই সময়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভোলার অনেক সচেতন নাগরিক। তাদের মতে, প্রস্তাবিত রুটের ভৌগোলিক অবস্থান, মোট দূরত্ব, সড়কের বাস্তব অবস্থা এবং যানবাহনের স্বাভাবিক গতি বিবেচনায় দুই ঘণ্টায় ভোলা থেকে ঢাকা যাওয়া বাস্তবসম্মত কি না—তা প্রকৌশলগত সমীক্ষা ও নির্ভরযোগ্য দূরত্ব-সময়ের হিসাব ছাড়া বলা কঠিন।
সমালোচকদের কেউ কেউ দাবি করছেন, বাস্তবে এ পথে ঢাকা যেতে কতো ঘণ্টা সময় কম লাগতে পারে তা নির্ধারণে সুনির্দিষ্ট রুট, সড়কের দৈর্ঘ্য, ফেরি বা সেতু সংযোগ, গতি সীমা ও যানজটসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে ভোলার যোগাযোগব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সরাসরি সড়ক যোগাযোগের দাবিও রয়েছে। বিশেষ করে ভেদুরিয়া-লাহারহাট এলাকায় তেঁতুলিয়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণ করে ভোলা-বরিশাল সরাসরি সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার দাবি স্থানীয়দের একটি অংশের দীর্ঘদিনের।
তাদের মতে, ভোলার সঙ্গে বরিশাল ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা হলে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে প্রস্তাবিত ভোলা-বরিশাল-শরীয়তপুর সংযোগের পক্ষের মত হলো, পদ্মা সেতুকেন্দ্রিক জাতীয় সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে ভোলার সংযোগ তৈরি হলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
অ্যাডভোকেট মনিরের বক্তব্যকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে নানা ধরনের মন্তব্য দেখা যাচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যক্তিগত আক্রমণ বা ট্রলের পরিবর্তে ভোলার ভবিষ্যৎ যোগাযোগব্যবস্থা নিয়ে সঠিক দূরত্ব, সম্ভাব্য সময়, প্রকল্প ব্যয়, অর্থনৈতিক সুফল ও প্রকৌশলগত বাস্তবতা সামনে রেখে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।