ভোলার কৃতি সন্তান অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ফরিদ উদ্দিনকে ভূতাপেক্ষভাবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে পদোন্নতি

0
FB_IMG_1783529417693


অনলাইন ডেক্স।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মো. ফরিদ উদ্দিন, পিএসসি-কে ভূতাপেক্ষভাবে (Retrospectively) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। গত ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ আদেশ কার্যকর করা হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, বিগত সরকারের সময়ে পদোন্নতি ও পেশাগত মূল্যায়নে বৈষম্যের শিকার হওয়া সামরিক কর্মকর্তাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত এবং তাদের হারানো মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিমত করেছেন তারা ।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা নম্বর বিএ-২৭৪৮-এর অধিকারী কর্নেল মো. ফরিদ উদ্দিন, পিএসসি-কে বয়সসীমা অনুযায়ী ১৪ মে ২০১৮ তারিখ থেকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে ভূতাপেক্ষভাবে পদোন্নতি প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে ওই পদমর্যাদা অনুযায়ী স্বাভাবিক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে গণ্য করা হবে।
এই পদোন্নতির ফলে তিনি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদের বিপরীতে প্রাপ্য সকল বকেয়া বেতন, ভাতা, পেনশন পুনর্নির্ধারণসহ বিধি অনুযায়ী অন্যান্য আর্থিক ও আনুষঙ্গিক সুবিধা লাভ করবেন। দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি ও চাকরিজীবনে বৈষম্যের কারণে যে আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছিল, এই আদেশের মাধ্যমে তার যথাযথ প্রতিকার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (ভূতাপেক্ষ) মো. ফরিদ উদ্দিন ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার কৃতি সন্তান। তাঁর এই পদোন্নতিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে মিশ্র অনুভূতি দেখাযায়।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, বৈষম্য ও প্রশাসনিক বঞ্চনার শিকার সামরিক কর্মকর্তাদের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে এই বিশেষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
এ লক্ষ্যে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর মোট ১৫০ জন কর্মকর্তা এই সুবিধার আওতায় এসেছেন। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর ১১৫ জন, নৌবাহিনীর ২১ জন এবং বিমানবাহিনীর ১৪ জন কর্মকর্তা রয়েছেন।

অতীতে জারি করা বাধ্যতামূলক বা অকাল অবসরের আদেশ বাতিল করে বয়সসীমা অনুযায়ী চাকরিকাল বৈধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূতাপেক্ষভাবে উচ্চতর পদে পদোন্নতি দিয়ে স্বাভাবিক অবসর প্রদান করা হয়েছে।
পদোন্নতিপ্রাপ্ত পদমর্যাদা অনুযায়ী বিগত বছরের বকেয়া বেতন, ভাতা, পেনশন এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পুনর্নির্ধারণ করে বিধি মোতাবেক প্রদান করা হবে।
আর্থিক ক্ষতিপূরণ হিসেবে যোগ্যতা ও ক্ষেত্রভেদে এককালীন ৫০ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা পর্যন্ত বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা প্রদান করা হবে।
সরকারি অথবা সার্ভিসেস ম্যানেজমেন্টের অধীনে প্লট কিংবা ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়ার নীতিমালা রয়েছে।
বয়স ও যোগ্যতা অনুযায়ী বিভিন্ন সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সুযোগও রাখা হয়েছে।
কর্নেল মো. ফরিদ উদ্দিন, পিএসসি: ভোলার দৌলতখান উপজেলার এই কৃতি সন্তানকে ১৪ মে ২০১৮ থেকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দিয়ে স্বাভাবিক অবসর প্রদান করা হয়েছে। তিনি নতুন পদমর্যাদা অনুযায়ী বকেয়া বেতন, ভাতা, পেনশন এবং বিধি অনুযায়ী অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *