তাজমিন হত্যা।।কক্সবাজারে কথিত প্রেমিক

0
FB_IMG_1791801209276

রাজুর বক্তব্য


কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লার ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন (১৫) হত্যা মামলার ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে কক্সবাজারে তাঁর কথিত প্রেমিক রিয়াজ উদ্দিন রাজুর সঙ্গে পরিচয় ও অবস্থানের বিষয়টি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে কক্সবাজারে যাওয়া, সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হওয়া এবং পরে ধানখেত থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে রাজু দাবি করেছেন, ইনস্টাগ্রামে পরিচয়ের পর তাজমিনের সঙ্গে তাঁর প্রায় তিন-চার মাস কথা হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে এসব বক্তব্যের স্বাধীন সত্যতা এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে রাজুর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তসাপেক্ষ।

ইনস্টাগ্রামে পরিচয়, কক্সবাজারে যাওয়া
রাজুর বক্তব্য অনুযায়ী, পরিবারের সঙ্গে বিরোধের পর তাজমিন বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যান এবং তাঁর সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। রাজুর পাঠানো অবস্থান অনুসরণ করে তাজমিন কক্সবাজারে পৌঁছালে তিনি তাঁকে গ্রহণ করেন। পরে কক্সবাজারের কলাতলী এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে তাঁরা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে অবস্থান করেন বলে রাজু দাবি করেছেন।
রাজুর ভাষ্য, হোটেলে অবস্থানকালে তাজমিনের পরিবারের সদস্যরা বারবার ফোন করছিলেন।
একপর্যায়ে তিনি তাজমিনের জন্য বাসের টিকিট কেটে দেন এবং তাঁকে কুমিল্লাগামী বাসে তুলে দেন।
বাড়ি ফেরার পথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
রাজুর দাবি, কুমিল্লায় পৌঁছানো পর্যন্ত তাজমিন তাঁর সঙ্গে লাইভ লোকেশন শেয়ার করছিলেন। বাড়ির প্রধান ফটক বন্ধ এবং বাবার ফোন বন্ধ পাওয়ার কথা জানিয়ে তাজমিন তাঁকে ফোন করেন। পরে এক বন্ধুর বাসায় রাত কাটানোর কথা জানান বলেও রাজুর বক্তব্য।

রাজুর ভাষ্য অনুযায়ী, ভিডিও কলে তাজমিনকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় উঠতে দেখে তিনি তাঁকে নেমে যেতে বলেন। কিন্তু তাজমিন কল কেটে দেন এবং লাইভ লোকেশন বন্ধ করে দেন। এরপর তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে রাজু দাবি করেছেন।

নির্জন স্থানে নিয়ে হত্যা
পুলিশের তদন্ত ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবর রাতে কুমিল্লার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড এলাকায় পৌঁছানোর পর তাজমিন একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন। অভিযোগ রয়েছে, চালক তাঁকে নির্ধারিত গন্তব্যে না নিয়ে লালমাই উপজেলার ভোরালজগতপুর উত্তরপাড়ার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান।

সেখানে তাজমিনকে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরদিন ৮ অক্টোবর সকালে একটি ধানখেতের আইল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় অটোরিকশাচালক মো. সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, প্রযুক্তিগত তদন্তের মাধ্যমে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে চট্টগ্রাম থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধারের কথাও গণমাধ্যমে এসেছে।

আদালতে সুমনের দেওয়া জবানবন্দি সম্পর্কে প্রকাশিত তথ্যের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ সংশ্লিষ্ট নথি ও পুলিশের বক্তব্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।
রাজুর ভূমিকা খতিয়ে দেখছে পুলিশ
গণমাধ্যমে রাজুর বক্তব্য প্রকাশের পর তাঁর ভূমিকা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। আপনার দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, ১১ অক্টোবর রাতে কক্সবাজারের কলাতলী এলাকা থেকে রিয়াজ উদ্দিন রাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তবে গ্রেপ্তারের বিষয়টি, তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এবং পুলিশের বক্তব্য আনুষ্ঠানিক সূত্রে যাচাই করে প্রকাশ করা জরুরি। তাজমিনকে কক্সবাজারে যাওয়ার ক্ষেত্রে রাজুর ভূমিকা কী ছিল, তাঁদের যোগাযোগের প্রকৃতি কী এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে।

ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় পরিবার
একজন কিশোরীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যু আবারও শিশু-কিশোরীদের নিরাপত্তা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ এবং গণপরিবহনে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব তদন্তকারী সংস্থা ও আদালতের।

জান্নাতুল তাজমিন হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত, অপরাধে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির দায় নির্ধারণ এবং দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *