ফোন না ধরায় শিক্ষিকাকে মারধরের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত

0
FB_IMG_1786728097340


নেত্রকোনা প্রতিনিধি


নেত্রকোনার মদন উপজেলায় সহকারী শিক্ষিকাকে মারধর ও ঘাড় ধরে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগের তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় গোবিন্দশ্রী বড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জিয়াউল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) নেত্রকোনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩৯(১) বিধি অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৬ আগস্ট বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা জ্যোৎস্না আক্তারের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জিয়াউল হকের কথা-কাটাকাটি হয়। এর আগে ৪ আগস্ট জ্যোৎস্না আক্তারের মা অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি এক দিনের নৈমিত্তিক ছুটি নিয়ে নেত্রকোনায় যান। পরদিন অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে তিনি বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে পারেননি।
৬ আগস্ট বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করার পর আগের দিনের অনুপস্থিতির কারণ নিয়ে জিয়াউল হকের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জিয়াউল হক তাকে চড়-থাপ্পড় মারেন এবং ঘাড় ধরে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগ করেন জ্যোৎস্না আক্তার।
এ ঘটনায় সহকারী শিক্ষিকা মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করা হয়। তদন্তকারীরা বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেন।
তদন্তে সহকারী শিক্ষিকাকে মারধর এবং ঘাড় ধরে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় বলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রোজা আলী মিয়া ও আব্দুল কুদ্দুস এবং বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোছা. ইয়াসমিন আক্তারও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আদেশ অনুযায়ী, সাময়িক বরখাস্তকালীন তিনি বিধি মোতাবেক খোরাকি ভাতা (Subsistence Allowance) পাবেন।
অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জিয়াউল হকের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি বলে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
মদন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা সুলতানা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জিয়াউল হককে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *